Xiaomi থেকে Samsung, গ্রাহকের স্বার্থে নতুন বছরে এই বিষয়গুলি স্মার্টফোন কোম্পানিদের এড়িয়ে চলা উচিত

এই প্রতিবেদনে এমন ১২ টি জিনিসের কথা উল্লেখ করা হল, যেগুলি ২০২২ সালে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির এড়িয়ে চলা উচিত

প্রতি বছরের মতো ২০২১ সালেও স্মার্টফোন দুনিয়ায় একাধিক আকর্ষণীয় চমক লক্ষ্য করা গেছে। iPhone 13 সিরিজ, OnePlus 9 এবং Samsung Galaxy S21 সিরিজের মতো কিছু প্রত্যাশিত ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন লঞ্চের পাশাপাশি আরও অনেক নজরকাড়া মডেল বাজারে এসেছে। প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ ফোন ছাড়াও, কিছু স্মার্টফোন কোম্পানি সাশ্রয়ী মূল্যের মিড রেঞ্জ ডিভাইস তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। Realme এবং Xiaomi-র মতো ব্র্যান্ডগুলি মিড-রেঞ্জ প্রাইস ক্যাটাগরিতে একাধিক ফোন লঞ্চ করেছে।

এসবের পাশাপাশি বহু মডেলেই ব্যাটারি এবং ক্যামেরার ক্ষেত্রেও বেশ অনেকটাই ইমপ্রুভমেন্ট লক্ষ্য করা গেছে, এবং স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলিও ক্রমাগত আরও অধিক উন্নতির দিকে জোর দিচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্মার্টফোনগুলিতে এমন অনেক অতিরিক্ত ফিচার যুক্ত করা হয়ে থাকে, যেগুলি ইউজারদের হয়তো ততটা হলেও প্রয়োজন পড়ে না। বা স্মার্টফোনগুলির মার্কেটিংয়ের জন্য অনেক সময় কোম্পানিগুলি এমন অনেক কাজ করে থাকে যা ব্যবহারকারীদের একেবারেই নাপসন্দ। এই প্রতিবেদনে এমন ১২ টি জিনিসের কথা উল্লেখ করা হল, যেগুলি ২০২২ সালে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির এড়িয়ে চলা উচিত।

১. একাধিক ক্যামেরা সেন্সর

ফোনের নান্দনিক ডিজাইন বৃদ্ধি করা ছাড়া একাধিক সেন্সরের কোনো কাজ নেই, এবং এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার বহু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফোনে একাধিক সেন্সর থাকলেও সেগুলির কর্মক্ষমতা ইউজারদের বিশেষভাবে কোনো কাজে আসে না, কারণ বেশিরভাগ ইউজারই অন্যান্য সেন্সরের চেয়ে প্রাইমারি ক্যামেরাটি বেশিবার ব্যবহার করেন। তাই স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো/ডেপ্থ ক্যামেরাটি বাদ দিতে পারেন, যা শুধুমাত্র ডিভাইসে উপলব্ধ সেন্সরগুলি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মেইন ক্যামেরা সেটআপের সাথে ট্যাগ করা হয়।

২. সেকেন্ডারি ডিসপ্লের মতো গিমিক (gimmicky) ফিচার যেগুলির কার্যকারিতা খুবই কম

একজন ইউজার পিছনে একটি সেকেন্ডারি ডিসপ্লে বা একটি পপ-আপ / রিট্র্যাকটেবল ক্যামেরার মতো ফিচারগুলির চেয়ে একটি কার্যকরী ফিচার বেশি পছন্দ করবেন। তাই স্মার্টফোন সংস্থাগুলি ২০২২ সালে এই গিমিক (gimmicky) ফিচারগুলি আনা বন্ধ করতে পারে।

৩. অসুন্দর ক্যামেরা বাম্প

আগে একটি সিঙ্গেল রিয়ার ক্যামেরা সমেত স্মার্টফোনে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ডিজাইন দেখা যেত। তবে ধীরে ধীরে একাধিক ক্যামেরা সেন্সর যুক্ত হওয়ায় ডিজাইনে পরিবর্তন এসেছে। তাই এখনকার স্মার্টফোনে বর্গাকার, আয়তাকার এবং বৃত্তাকারে ক্যামেরা মডিউল দেখা যায়। কিন্তু এর চাইতে সিঙ্গেল বা ডুয়েল ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোনগুলিই ইউজারদের বেশি পছন্দের। তাই এই ধরনের জটিল ডিজাইন স্মার্টফোনে না রাখলেই হয়তো ইউজাররা বেশি খুশি হবে।

৪. বাজেট ফোনে ৭২০-পিক্সেল রেজোলিউশন

আমরা এখন ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে আছি। এমত পরিস্থিতিতে ১৫,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকার দামের স্মার্টফোনগুলি ৭২০ পিক্সেল রেজোলিউশনের ডিসপ্লে সহ আসা নিতান্তই হতাশাজনক। আশা করা যায় যে, এই বছর থেকে আর এই বিষয়টিকে নিয়ে ইউজারদেরকে নিরাশ হতে হবে না।

৫. দুর্বল ব্যাটারি ব্যাকআপ

বেশিরভাগ স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলিই এখন ফোনের চার্জিং স্পিডের দিকে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছে। তাই আজকাল অনেক স্মার্টফোনেই ১২০ ওয়াট চার্জিং স্পিডও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু চার্জিং স্পিড বাড়লেও ব্যাটারি ব্যাকআপের ক্ষেত্রে কিন্তু ততটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ খানিকক্ষণ ব্যবহার করার পর থেকেই ব্যাটারি ঝরঝর করে কমতে থাকে, এবং ১-২ বছর পর থেকেই আস্তে আস্তে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। তাই আশা করা যায় যে, ২০২২ সালে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং ব্যাটারি ক্যাপাসিটির দিকে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করবে।

৬. ৫জি ফোন হওয়ার কারণে অপ্রয়োজনীয় মূল্য বৃদ্ধি

ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এখনও ৫জি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি চালু হয়নি। কিন্তু তা সত্বেও স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলি প্রচুর পরিমাণে ৫জি স্মার্টফোন চড়া দামে বাজারে লঞ্চ করে চলেছে, এবং ক্রেতারাও আগামী দিনে দুর্দান্ত গতিসম্পন্ন ৫জি ব্যবহারের আশায় প্রলুব্ধ হয়ে বেশি দাম দিয়ে ফোনগুলি কিনে ফেলছেন। এখনও পর্যন্ত ৫জি কবে আসবে তার সঠিক তারিখ জানা যায়নি, তার আগেই অকারণে ৫জি স্মার্টফোনগুলির দাম এতটা বাড়ানো উচিত নয়। তাই ২০২২ সালে আশা করা যায় যে, অকারণে ৫জি-র প্রলোভন দেখিয়ে ইউজারদের কাছে বেশি দামে সংস্থাগুলি স্মার্টফোন বিক্রি করবে না।

৭. মিড-রেঞ্জ ফোনে ফিজিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার

Apple ২০১৮ সালে iPhone X সিরিজ থেকে TouchID-কে সরিয়ে নিয়েছিল। এখন Android ফোন নির্মাতারা তাদের ফ্ল্যাগশিপ ফোন থেকে ফিজিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার অপসারণে Apple-কে অনুসরণ করেছে, তবে তারা এখনও মিড-রেঞ্জ এবং বাজেট ক্যাটাগরির ফোনে এটি সরবরাহ করে চলেছে। যদিও এটিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাওয়ার বাটনে মাউন্ট করা হয়, তবে ইউজাররা চায় যে ২০২২ সালে এই প্রাইস ক্যাটাগরি থেকে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি ফিজিকাল স্ক্যানারকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিক।

৮. ফ্ল্যাগশিপ Android ফোনে প্লাস্টিক বডি

প্লাস্টিক ব্যবহার করলে স্মার্টফোনে ঠিক প্রিমিয়াম ফিল পাওয়া যায় না, এমনকি যদি বেশ ব্যয়বহুল গ্লাসের কোটিং-ও দেওয়া হয়ে থাকে, তা সত্ত্বেও যেন কোথাও একটু খামতি থেকে যায়। তাই আশা করা যায় যে, স্মার্টফোন নির্মাতারা ২০২২ সালে অন্তত ফ্ল্যাগশিপ ফোনে প্লাস্টিক বডি ব্যবহার করবে না।

৯. ৫জি-কে মার্কেটিং ফিচার হিসেবে ব্যবহার করা

যেমন আগেই বললাম যে ৫জি ফোন বলে অনেক কোম্পানিই ফোনের বেশ খানিকটা দাম বাড়িয়ে রাখছে, তেমনি বহু সংস্থাই আবার কোনো ফোনকে প্রোমোট করার ক্ষেত্রে ৫জি-কে একটি মার্কেটিং ফিচার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে সঠিকভাবে ফোনগুলি সত্যিই ৫জি কানেক্টিভিটি সাপোর্ট করতে পারবে কি না সে সম্পর্কে কিন্তু বিশদে কিছু উল্লেখ করা থাকছে না। যেমন – কোনো কোনো কোম্পানি ৫জি নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি জন্য ১২ টি ব্যান্ড সাপোর্ট প্রদান করলেও, কিছু কিছু ব্র্যান্ডের ফোনে ২ টি ব্যান্ড সাপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে, যা খুব স্বাভাবিকভাবেই ৫জি কানেক্টিভিটি সঠিকভাবে সাপোর্ট করতে সক্ষম নয় বলেই ধরে নেওয়া যায়। তাই এই কাজগুলি ২০২২ সালে নামজাদা কোম্পানিগুলির কাছ থেকে অবশ্যই ইউজাররা আশা করবে না।

১০. দেরিতে OS আপডেট

একটি বা দুটি প্রধান Android স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ছাড়া, কোনো সংস্থাই তাদের ডিভাইসগুলিতে যথাযথভাবে রেগুলার আপডেট প্রদান করে না। এমনকি যদিও বা করে, তাহলেও তা কেবলমাত্র হাই-এন্ড স্মার্টফোনগুলির ক্ষেত্রে। তাই ২০২২ সালে ইউজাররা অবশ্যই আশা করবে যে, স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি হাই-এন্ড এর পাশাপাশি কমদামি স্মার্টফোনগুলিতেও যথাসময়ে OS আপডেট প্রদান করবে।

১১. Google ভারতে Pixel লঞ্চ করছে না

Google Pixel 4a ছিল সংস্থার শেষ ফোন যা ভারতে চালু হয়েছিল। তারপর থেকে এটি গ্লোবাল মার্কেটে Pixel 5 সিরিজ এবং Pixel 6 সিরিজ চালু করেছে। তবে ভারতের Pixel ভক্তরা এখনও এই মডেলগুলি লঞ্চের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই ইউজাররা চায় যে, Google ২০২২ সালে ভারতে তার Pixel লাইনআপ বা কমপক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যের ‘a’ মডেলগুলি চালু করা শুরু করুক।

১২. স্মার্টফোনে অ্যাড যেন না থাকে

ইউজাররা চায় যে ২০২২ সাল থেকে স্মার্টফোনগুলি বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করুক। আসলে ডিভাইসগুলিতে বেশ কিছু অ্যাড এবং ব্লটওয়্যার অ্যাপ প্রি-ইন্সটল করা থাকে, যেগুলির মাধ্যমে ক্রমাগত স্মার্টফোনে অ্যাড প্রদর্শিত হতে থাকে। যদিও এই ধরনের জিনিসগুলি স্মার্টফোনে ইন্সটল করার প্রবণতা এখন কোম্পানিগুলি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে, তবে ইউজাররা নিশ্চিতভাবে চায় যে ২০২২ সালে স্মার্টফোনে অ্যাড শো হওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হোক।

সবার আগে খবর পেতে Google News-এ ফলো করুন