লক্ষ লক্ষ Jio গ্রাহককে সাবধান করল Reliance, ভুলেও এই ছয়টি কাজ করবেন না

সাইবার জালিয়াতির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে ৪২৬ মিলিয়ন গ্রাহককে সতর্ক করল Reliance Jio; ভুলেও কখনো এই ছয়টি কাজ করবেন না

সাম্প্রতিককালে দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সাইবার জালিয়াতি সম্পর্কে গ্রাহকদের সতর্ক করতে এক দুর্দান্ত পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)। সংস্থাটি তার ৪২৬ মিলিয়ন গ্রাহকদের কাছে লেখা এক খোলা চিঠির মাধ্যমে তাদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) স্ক্যাম সম্পর্কে সতর্ক করেছে, যা সাম্প্রতিককালে ঘটিত বিভিন্ন রকম সাইবার জালিয়াতির মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এর পাশাপাশি এই জাতীয় ঘটনার মোডাস অপারেন্ডি, অর্থাৎ স্ক্যামাররা নিরীহ গ্রাহকদের প্রতারিত করার জন্য কীভাবে এবং কেন এই ধরনের কার্যাবলীর আশ্রয় নিচ্ছে, সে সম্পর্কেও বিশদে ব্যাখ্যা করেছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে দেশের অন্য দুই শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি Bharti Airtel এবং Vodafone Idea-র সিইও-ও তাদের গ্রাহকদের এক খোলা চিঠির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সাইবার জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। এই প্রতিবেদনে আমরা এমন ছয়টি কাজের কথা উল্লেখ করতে চলেছি, যা সাইবার জালিয়াতির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে Reliance Jio তাদের গ্রাহকদের কখনোই না করার নির্দেশ দিয়েছে।

১. ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত কল বা মেসেজে রেসপন্ড করবেন না

হামেশাই হ্যাকাররা ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশনের জন্য ভুয়ো কল বা মেসেজ করে ইউজারদের বিব্রত করার চেষ্টা করে। বিশেষত দুপুরের দিকে যখন বাড়িতে বিশেষ লোকজন থাকে না বা খাওয়াদাওয়ার পর মানুষের একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব আসে, হ্যাকাররা সেই অসতর্ক বা দুর্বল মুহূর্তগুলিকেই কাজে লাগানোর প্রবলভাবে চেষ্টা করে। তাই কোনো ফোন বা মেসেজে ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত কিছু জানতে চাওয়া হলে কোনোমতেই তার কোনো প্রত্যুত্তর দেবেন না।

২. কেওয়াইসি আপডেট বা অন্য কোনোপ্রকার ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার ফোনে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না

গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে জিও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, কেওয়াইসি বা আধার ডিটেলস আপডেট করার জন্য যেন গ্রাহকরা কোনোমতেই কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না করেন। কেননা জিও-র পক্ষ থেকে কখনোই এই জাতীয় ক্রিয়াকলাপের জন্য কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয় না। এর পিছনে মূল কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, MyJio অ্যাপেই যেহেতু সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া যায়, তাই অন্য কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করার কথা জিও কখনোই গ্রাহকদের বলবে না। তাই আপনার কাছে এই ধরনের কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য মেসেজ বা কল এলে খবরদার কখনো সেই অ্যাপগুলি ডাউনলোড করবেন না। এর ফলে আপনি সাইবার জালিয়াতির কবলে পড়ে বড়ো রকমের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

৩. জিও রিপ্রেজেন্টেটিভ বলে দাবি করা কারোর সাথে আপনার আধার নম্বর, OTP বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর শেয়ার করবেন না

জিও-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউজারদের সাইবার জালিয়াতির ফাঁদে ফেলার জন্য হ্যাকাররা নিজেদেরকে জিও রিপ্রেজেন্টেটিভ হওয়ার ভান করে ব্যবহারকারীদের মেসেজ বা ফোন করে, এবং এই অছিলায় তাদের কাছ থেকে ই-কেওয়াইসির জন্য আধার (Aadhaar), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা OTP সম্পর্কিত নানা তথ্য জেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে এই ধরনের কোনো তথ্য কেউ আপনার কাছ থেকে চাইলে তা কখনোই তাদের দেবেন না।

৪. আপনার কানেকশন কেটে দেওয়া হবে বলে কোনো কলার ফোন করলে তাদের কখনোই বিশ্বাস করবেন না

গ্রাহকদের প্রতারিত করতে হ্যাকারদের আবিষ্কৃত নিত্যনতুন ফন্দিফিকিরের কোনো শেষ নেই। সাম্প্রতিককালে এরকম কিছু ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে যে, ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন কমপ্লিট না করলে হ্যাকাররা ফোন বা এসএমএস-এর মাধ্যমে ইউজারদের মোবাইল কানেকশন কেটে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এবং মোবাইল কানেকশন যে এখনকার দৈনিক জীবনযাপনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিশ্চয়ই আর নতুন করে বলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ফলে আচমকা এই ধরনের কোনো কল বা মেসেজ এলে ইউজাররা রীতিমত ভয় পেয়ে গিয়েই নিজেদের যাবতীয় ডিটেলস হ্যাকারদের সাথে শেয়ার করে ফেলেন, আর নিজেদের অজান্তেই হয়ে যান ভয়ঙ্কর রকমের সাইবার জালিয়াতির শিকার। তাই অযথা এই ধরনের ভুয়ো কল বা মেসেজ এলে বিব্রত হবেন না।

৫. ই-কেওয়াইসি কমপ্লিট করার জন্য ফোনে আসা ভুয়ো এসএমএস-এ উল্লিখিত কোনো নম্বরে কল ব্যাক করবেন না

রিলায়েন্স জিও তাদের গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে ভুয়ো ই-কেওয়াইসি এসএমএস-এ দেওয়া নম্বরগুলিতে কল ব্যাক না করার আর্জি জানিয়েছে। সাধারণত কেওয়াইসি সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ কমপ্লিট করার জন্য এই মেসেজগুলিতে একটি কল ব্যাক নম্বরের কথা উল্লেখ করা থাকে। যখন গ্রাহক এই নম্বরে কল করেন, তখন ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাকে একটি থার্ড-পার্টি অ্যাপ ইন্সটল করতে বলা হয়, এবং তা করা মাত্রই গ্রাহকের ফোন এবং ডিভাইসের সাথে সম্পর্কিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রতারকরা দূর থেকেই রিমোট কোডের মাধ্যমে অ্যাক্সেস পেয়ে যায়। তাই কখনো ভুলেও এই ধরনের কাজ করবেন না।

৬. জিও রিপ্রেজেন্টেটিভের তরফ থেকে আসা কোনো মেসেজে উল্লেখিত লিঙ্কে কখনো ক্লিক করবেন না

অনেক সময় জিও-র পক্ষ থেকে গ্রাহকদের ফোনে এমন কিছু মেসেজ আসে যেখানে কিছু লিঙ্ক বা অ্যাটাচমেন্ট থাকে, যেগুলিতে ক্লিক করার জন্য ইউজারদের প্রলুব্ধ করা হয়। কিন্তু জিও তার গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, জিও-র পক্ষ থেকে ই-কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন বা এই সংক্রান্ত কোনো কাজের জন্য এই ধরনের কোনো মেসেজ ইউজারদের পাঠানো হয় না। তাই আপনার কাছে এরকম কোনো মেসেজ আসলে তাতে থাকা লিঙ্ক বা ইউআরএল-এ কখনো ক্লিক করবেন না।

স্মার্টফোন, গাড়ি-বাইক সহ প্রযুক্তি দুনিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Google News ও Twitter পেজ, সঙ্গে অ্যাপ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।