ভারতে চালু হচ্ছে e-Passport পরিষেবা, কীভাবে কাজ করবে জেনে নিন

ভারত চিপসমেত ই-পাসপোর্ট চালু করতে প্রস্তুত, জেনে নিন এটি কীভাবে কাজ করবে

ডিজিটাল ইন্ডিয়া গঠনের লক্ষ্যে আরও-এক ধাপ এগোল ভারত, কারণ খুব শীঘ্রই ভারতীয় ভ্রমণকারীরা মাইক্রোচিপ-ভিত্তিক ই-পাসপোর্ট (e-passport) পেতে চলেছে। সম্প্রতি এমনই কথা Twitter-এ জানালেন বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) সচিব সঞ্জয় ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর টুইটে ই-পাসপোর্টের ফিচার সম্পর্কেও বর্ণনা করেছেন। তার কথা অনুযায়ী, নিরাপদ বায়োমেট্রিক তথ্য সহ ভারতের ই-পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থার (International Civil Aviation Organisation বা ICAO) স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হবে। ই-পাসপোর্টগুলি মাইক্রোচিপ সহ আসবে যাতে গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি ডেটা স্টোর করা থাকবে। এটি নাসিকের ইন্ডিয়া সিকিউরিটি প্রেসে তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য যে, ভারত বর্তমানে ইউজারদের জন্য কেবলমাত্র প্রিন্টেড পাসপোর্ট ইস্যু করে।

এই প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী (External Affairs Minister) এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন যে, মন্ত্রক (ministry) মাইক্রোচিপ সম্পর্কে ‘ইন্ডিয়া সিকিউরিটি প্রেস’-এর সাথে আলোচনা করছে। তিনি আরও বলেছেন যে, ই-পাসপোর্ট তৈরির বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে অদূর ভবিষ্যতে অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি ফিচারসহ একটি নতুন পাসপোর্ট বুকলেট চালু করা যায়।

পাসপোর্ট সেবা প্রোগ্রাম (Passport Seva Programme) পরিচালনার জন্য দ্বিতীয় চুক্তি অর্জনকারী TCS-ও ঘোষণা করেছে যে, তারা ই-পাসপোর্ট চালু করবে। TCS-এর পাবলিক সেক্টরের বিজনেস ইউনিটের প্রধান তেজ ভাটলা সংবাদ সংস্থা PTI-কে জানিয়েছেন যে, টেকনোলজি (ই-পাসপোর্টের জন্য) আসলেও পাসপোর্ট বুকলেট মঞ্জুর বা মুদ্রণের মতো সার্বভৌম কাজ কিন্তু সরকার অব্যাহত রাখবে। তাহলে চলুন, ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে আর-একটু বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

ই-পাসপোর্ট কী? (What is e-Passport)

একটি ই-পাসপোর্ট বা ডিজিটাল পাসপোর্ট চিরাচরিত পাসপোর্টের মতো একই কাজ করবে। ই-পাসপোর্ট একটি বৈদ্যুতিন চিপ সহ আসবে যাতে প্রিন্টেড পাসপোর্টের মতো একই তথ্য মজুত থাকবে। মাইক্রোচিপে পাসপোর্ট ধারকের নাম, জন্ম তারিখ সহ অন্যান্য ব্যক্তিগত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একবার ই-পাসপোর্ট চালু হয়ে গেলে ভারতীয় ভ্রমণকারীদের আর ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের পরিবর্তে ই-পাসপোর্টটিকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্ক্যান করা যেতে পারে। এটি জাল পাসপোর্ট ব্যবসাকে দমন করতেও সহায়তা করবে, কারণ মাইক্রোচিপে রেকর্ড করা ডেটাকে অদলবদল করা স্ক্যামারদের পক্ষে বেশ কঠিন হবে।

তবে উল্লেখ্য যে, ই-পাসপোর্ট যে ভারতেই প্রথম চালু হচ্ছে এমন কিন্তু নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি সহ ১২০ টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যেই বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট সিস্টেম রয়েছে।

ই-পাসপোর্ট কীভাবে কাজ করবে?

ই-পাসপোর্টে একটি ইনলেইড চিপ থাকবে, যা পাসপোর্ট ধারকের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য বহন করবে। পাসপোর্টের পিছনে যে চিপটি রাখা হবে, তাতে ৬৪ কিলোবাইট স্টোরেজ স্পেস এবং একটি এমবেডেড আয়তাকার অ্যান্টেনা থাকবে। চিপটিতে প্রাথমিকভাবে ৩০টি আন্তর্জাতিক ট্রিপ পর্যন্ত তথ্য থাকবে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে চিপটিতে পাসপোর্ট ধারকের ছবি, আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা সহ আরও একাধিক তথ্য স্টোর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যদি কেউ চিপটি ট্যাম্পার করার চেষ্টা করে, তাহলে তখন আর পাসপোর্ট অথেন্টিকেশন সম্ভবপর হবে না।

স্মার্টফোন, গাড়ি-বাইক সহ প্রযুক্তি দুনিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Google News ও Twitter পেজ, সঙ্গে অ্যাপ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।